Thursday, September 10, 2020

গৃহীর সাধন: করণীয় ও বর্জনীয়- ২য় কিস্তি

 গৃহীর সাধন: করণীয় ও বর্জনীয়

মেলে বৃক্ষসম হয়ে গেছে, তাই আধুনিক বিজ্ঞানের কথাটি পুরোপুরি নাকচ করলে, সাধন জীবন তো শত যোজন দূরে, জীবনের স্বাভাবিক ছন্দটাই বিঘ্নিত হবে এ কথা নিশ্চিত। তথাপি প্রকৃতির মায়াজালের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করলেও তা মনুষ্য জাতির পক্ষে সম্মানজনক নয়। তাই.......

Wednesday, September 9, 2020

গৃহীর সাধন: করণীয় ও বর্জনীয়- ১ম কিস্তি

গৃহীর সাধন: করণীয় ও বর্জনীয়


কঠোপনিষদে একটি শ্লোকে ব্যক্ত হয়েছে, যা আমরা একাধিক বার বিশ্ববরেণ্য দার্শনিক তথা আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব স্বামী বিবেকানন্দের রচনায় দেখতে পাই -

"উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান্নিবোধত

ক্ষুরস্য ধারা নিশিতা দুরত্যয়া

দূর্গং পথস্তৎ কবয়ো বদন্তি।" ১/৩/১৪

যার অর্থ হল -----

গুরু ও শিষ্য-৩

 গুরু ও শিষ্য - ৩:


শাস্ত্রানুযায়ী গুরু চার প্রকার, 

১) সর্বোত্তম- গুরু হলেন যিনি নির্বিকল্প সমাধি থেকে ফিরে এসেছেন অর্থাৎ পরমহংসত্ব লাভ করেছেন।

২) উত্তম- গুরু হলেন যিনি সবিকল্প সমাধি প্রাপ্ত হয়েছেন........

Saturday, September 5, 2020

বরণীয় স্মরণে

 বরণীয় স্মরণে

শিক্ষক দিবসের পূণ্য লগ্নে সপ্তলোক পরিব্যপ্ত এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমার সকল অগ্রজ, বয়ঃসম, অনুজ ও কনিষ্ঠ গুরু তথা শিক্ষকগণকে আমার সশ্রদ্ধ নমণ……..          

Tuesday, September 1, 2020

গৃহীর সাধনঃ সমস্যা ও সমাধান -৬

(পূর্ব প্রকাশিতের পর) 

কেন কর্মজীবনের শুরুতেই ভারতবাসী (অন্তত যারা জিজ্ঞাসু) জানবে না কিভাবে সারাজীবন ধরে বয়ে নিয়ে চলা কর্মজীবনই তাকে আধ্যাত্মিক উত্তরনের পথে নিয়ে যেতে পারে যা গীতা-উক্ত কর্মযোগ নামে পরিচিত ? এ ব্যাপারে অনেক ব্যাখ্যা অনেকের মুখেই অবশ্য শোনা যায়, কিন্তু তাতে প্রকৃতপক্ষে কজন দিশা খুঁজে পান সেটা ভেবে দেখতে অনুরোধ করি। কারণ কোনও ‘তত্ত্বের তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা’ এবং ‘সমস্যাসংকুল দৈনন্দিন জীবনে তার প্রতিফলন’ দুটি একদম ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করে। .........

গৃহীর সাধনঃ সমস্যা ও সমাধান -৫

 (পূর্ব প্রকাশিতের পর)

বছরের একটি অথবা দুটি অথবা নির্দিষ্ট কয়েকবার গুরুদেব আশ্রমে পদার্পণ করবেন। আর দীক্ষাগ্রহনেচ্ছু ভাবী শিষ্যবর্গ আগে থেকে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করিয়ে  তীর্থের কাকের দৃষ্টি নিয়ে সেই আসন্ন শুভ দিনটির অপেক্ষায় কালাতিপাত করতে থাকবেন। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত দিনে তিনি......

গৃহীর সাধনঃ সমস্যা ও সমাধান -৪

 

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

কিন্তু এটা বোঝা দরকার, শিষ্যকুল অবুঝ ও অজ্ঞান, আর অজ্ঞানতা পাপ নয়, কিন্তু অনুসন্ধিৎসা না থাকা অপরাধ, একটু সহজ করে বললে ‘না জানা’ পাপ নয়, কিন্তু 'জানতে না চাওয়া' অপরাধ। তাই সত্যিই যে  পিপাসিত তার পিপাসা না মিটিয়ে জ্ঞান প্রদান কোনো গুরুর ক্ষেত্রেই শোভা পায় না। কারণ, যে জ্ঞান পিপাসিতের তৃষ্ণা নিবারণ করে না, সে জ্ঞান তার কাছে মূল্যহীন......

Monday, August 31, 2020

গৃহীর সাধনঃ সমস্যা ও সমাধান -৩


(পূর্ব প্রকাশিতের পর)....


?. তাহলে আমরা কী ভাবে অগ্রসর হবো, বিশেষতঃ যারা প্রকৃতই ঈশ্বরতত্ত্ব লাভে আগ্রহী, আত্মদর্শনে অত্যুৎসাহী ? 

@. প্রকৃত গুরুর কাছে দীক্ষা নেওয়া।

?. কীভাবে বুঝব কে প্রকৃত গুরু ?

@. তা বুঝতে গেলে গুরুদের জীবন নিয়েও একটু চর্চা করা আবশ্যক। শাস্ত্রে বলা হয়েছে....

গৃহীর সাধনঃ সমস্যা ও সমাধান -২

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

   এভাবে একটার পর একটা অশান্তি মনে ধীরে ধীরে ভক্তির শক্ত ভিত্তি তৈরী করে দেবে নিশ্চিত আর তার দ্বারা ধীরে ধীরে আত্মিক উন্নতিও সম্ভব, কিন্তু তাতে যে পরিমান সময় লাগবে সেই সময় পর্যন্ত তিনি কি এ ধরাধামে থাকবেন? আর এভাবে সাধন-জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই যদি নিয়ম হয়ে থাকে,......

গৃহীর সাধনঃ সমস্যা ও সমাধান -১

      আমাদের মধ্যে অনেকেরই এমন ধারণা আছে যে সাধনা করার অধিকার শুধুমাত্র গৃহত্যাগী সাধকদের জন্য নির্দিষ্ট অথবা সাধনা করতে গেলে সংসার করা যাবে না, অর্থাৎ সাধনার জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন তা....

Tuesday, August 18, 2020

Follow by email notification

 সুধী পাঠকবৃন্দ,

 ব্লগের ডানদিকে Follow by Email option- টি দেওয়া হল, আপনারা আপনাদের email লিখে submit করলে পরবর্তী Post- গুলির Notification আপনাদের কাছে সহজেই পৌঁছে যাবে। 

পুনশ্চ: দু একজনের প্রশ্নের উত্তরে ও সকলের জ্ঞাতার্থে জানাই পূর্ববর্তী অপশন টিতে আপনারা email দ্বারা subscribe করলেও email টি আমার কাছে অজানাই থেকে যাবে, তাই আপনারা নিশ্চিন্তে subscribe করতে পারেন।

ধন্যবাদ,

..................... অজাতশত্রু


Monday, August 17, 2020

গুরু ও শিষ্য - ২

শিশু বয়ঃবৃদ্ধির সাথে সাথে, ধাপে ধাপে পিতা-মাতা ও তারপর বিভিন্ন শিক্ষাগুরুর কাছ থেকে জ্ঞান লাভ করতে করতে এক সময় একজন সম্পূর্ণ মানুষ হিসাবে সমাজে আত্মপ্রকাশ করে। এই দীর্ঘ যাত্রায় সে 

Saturday, August 15, 2020

গুরু ও শিষ্য

অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জনশলাকয়া

চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

--এর অর্থ শিষ্যের চোখের তিমিরবরন অজ্ঞানরূপ অন্ধকারকে যিনি জ্ঞানরূপ শলাকা দ্বারা সরিয়ে দেবেন, এবং জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন ঘটাবেন তিনিই গুরু। একথা শুধু অধ্যাত্ম জগতে নয়, বিশ্বচরাচরের সর্ব ক্ষেত্রে সত্য। অর্থাৎ আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা যেকোনো বিষয়ের উপর শিক্ষাগ্রহনের ক্ষেত্রেই এই সত্য প্রযোজ্য। অধ্যাত্ম জগতে এর যৌক্তিকতার বহিঃপ্রকাশ সর্বাধিক.....

Friday, August 14, 2020

অহং ও ভক্তি

প্রতিটি মানুষ এক একটি অদৃশ্য ঘুর্নায়মান শক্তিপুঞ্জের মধ্যে বাস করে, এই ঘূর্নায়মান শক্তিপুঞ্জ তার নিজ সৃষ্টি তবে তা এ জন্মের সৃষ্টি নয়, পূর্বজন্মকৃত প্রারব্ধের দ্বারা সৃষ্ট; আত্মা মাতৃজঠরে প্রবেশ করে সেই প্রারব্ধ বা কর্মফলকে সঙ্গে নিয়ে। সেই থেকে এই প্রারব্ধ এবং তৎসৃষ্ট শক্তিপুঞ্জ তাকে ঘিরে রাখে যতদিন না..........

Thursday, August 13, 2020

Monday, August 3, 2020

একটি সূচনা:-

সুধী পাঠকগণ,
    
    আজ কয়েক দিন ধরে কিছু বিষয় নিয়ে বিশেষ ভাবে ব্যস্ত থাকার কারণে সে ভাবে পোস্ট দিয়ে উঠতে পারিনি। সে কথা আগেই বলেছি, বিষয় টা বলা হয়নি। কিন্তু সেটা আপনাদের কাছে আলোচনা না করলে মানসিক ভাবে স্থির হতেও পারছিনা। কারণ, বিষয়টি ঘটার কারণে দু একটি সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছে, সে ব্যাপারে আপনাদের জানানোটাও জরুরি,  কারন এই অল্প সময়ে যেভাবে আপনাদের সহযোগিতা ও ভালবাসা পেয়েছি, তাতে আমি আপ্লুত। শুধু ভারত নয়, ভারতের বাইরেরও সেইসব শুভাকাঙ্ক্ষী পাঠকদের জানাই আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
    এবার বিষয়ে ফেরা যাক......
    বিগত কয়েক দিন আগে জানতে পারি পর পর দুটি সর্বভারতীয় তথা আন্তর্জাতিক সামাজিক মাধ্যম (social media) আমার এই ব্লগটিকে block করেছে, হতে পারে তারা স্বেচ্ছায় অথবা কোন ব্যবহারকারীর নির্দেশ পেয়েই কাজটি করেছে, যে ভাবেই হোক, এর কারন আমার কাছে পরিষ্কার হয়নি। হতে পারে আমার কোন অতি-শুভাকাঙ্ক্ষী পাঠকের/পাঠকগণের অতি-ভালবাসাই এর জন্য দায়ী, সেক্ষেত্রে তাঁর/তাঁদের সেই অতি-ভালবাসাকে স্বীকার করে নিয়েই জানাই যে, আপনাদের মত সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারন শুভাকাঙ্ক্ষীর আশীর্বাদের কাছে, মুষ্টিমেয় অতি-শুভাকাঙ্ক্ষীর অতি-ভালবাসা নিশ্চয়ই পরাজিত হবে, এমন আশা রাখি।

    এখন "কে" এবং "কেন" এই দুটির উত্তর জানা আমার কাছে খুবই জরুরি, তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ নিচ্ছি, এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্যও আমি আমার আইনজ্ঞের (Solicitor) সঙ্গে পরামর্শ করে চলেছি। কিন্তু এরই মাঝে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আগামি কয়েকদিনের মধ্যেই ওই দুটি সামাজিক মাধ্যম পুরোপুরি এবং স্থায়ী ভাবে পরিত্যাগ করব। এমতাবস্থায় আশা রাখি আমার এই কঠিন সময়ে আপনাদের কাছ থেকে একই ভাবে আগের মতই সহযোগিতা ও সমর্থন পাবো। যেহেতু ব্লগটির প্রচার কিছুটা হলেও সংকুচিত হয়েছে, তাই আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা যথাসম্ভব এটিকে শেয়ার করে এটির পাঠক সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করবেন।

    আশা রাখছি খুব শিগগিরি নতুন পোস্ট নিয়ে ফিরব, এবং কিছু পাঠকের পাঠানো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ারও চেষ্টা করব।

    ধন্যবাদান্তে .................. অজাতশত্রু 

Thursday, July 30, 2020

একটি সংবাদ: আমার প্রথম প্রকাশিত বই

বন্ধুরা, 
আজ শুভ ঝুলনযাত্রা, আমার প্রথম বই "সন্ধানানুসন্ধানী: Easy steps to Religious Life" (Online Version) প্রকাশিত হলো...
বইটি প্রকাশে সকল শুভানুধ্যায়ীদের ও প্রকাশনার সাথে যুক্ত সকলকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
এবার আমার পাঠকদের উদ্দেশ্যে :-
খাতায় আঁকিবুকি কাটি বহুদিন থেকেই, কিন্তু সেগুলির এমন রূপে বহিঃপ্রকাশের উদ্যোগ এই প্রথম, তাই ভুল ভ্রান্তি ঘটে থাকলে মার্জনা করবেন....
বইটিতে, আমার ব্লগে প্রকাশিত দুটি ও সম্পুর্ন অপ্রকাশিত একটি রচনা রয়েছে।
আপনারা বইটি নীচে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক
করে ন্যূনতম মূল্যে কিনতে পারেন।
অথঃ কিম্, বইটি আপনাদের ভালো লাগলেই এ উদ্যোগের স্বার্থকতা।

লিঙ্কটি নীচে দেওয়া হলো:-

Sunday, July 26, 2020

একটি সংশোধনী:

বন্ধুরা, 
        বেশ কয়েকদিন পর আবার আপনাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারলাম। এই কয়েকটা দিন ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তাই এই ব্যবধান। 
         যাই হোক আজ প্রথমেই  একটি সংশোধনীর ব্যাপারে জানাবো। গত ২৫/০৭/২০২০ তারিখে প্রকাশিত ব্লগে  "বিদেশ থেকে ফিরলে দেশে কার না ভালো লাগে, সুন্দর সুন্দর ফুল, সুন্দর সুন্দর গাছ কার না ভালো লাগে" শীর্ষক গানটি ভুলবশত: "প্রতীক" নামক বাংলা ছায়াছবির, বলে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু গানটি "অমর প্রেম" নামক ছায়াছবির ; অনিচ্ছাকৃত এই ত্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।

            সর্বত্র না হলেও, জায়গা বিশেষে "গৃহবন্দি" অবস্থা জারি রয়েছে, সবাই ঘরে থাকুন; সাথে সাথে সুস্থ থাকুন, এই কামনা করি।      
                                 .........অজাতশত্রু

Sunday, July 5, 2020

তত্ত্বাভিলাষীর আত্মকথন

যদি যাই তবে আসবো না এভাবে ফিরে,
থাকি যদি, এভাবে রেখোনা বেঁধে

চির-অক্ষয়ের চিত্রপটে আছে 
কতোই না বিচিত্র সৃষ্টি
হস্তীকে যদি না দিতেন এমন কর্ণ
         বাঁচতো কি এ সুন্দর কৃষ্টি.......

Thursday, July 2, 2020

আত্মজের প্রশ্নের উত্তরেঃ-


প্রশ্নঃ  মনুষ্য কী ভাবে মানসিক উন্নতি ঘটাতে পারে ?
উত্তরঃ মনুষ্য যে ভাবে মানসিক উন্নতির পথে যেতে পারে তার সমীকরণ ------
পড়া  + করা = পরা (পরাব্রহ্ম)। অর্থাৎ
ভক্তি + ক্রিয়া = জ্ঞান, কারণ জ্ঞান স্বয়ং ব্রহ্ম।


Sunday, June 7, 2020

তারে ধরি ধরি মনে করি, ধরতে যাবার (মনের) জোর পাইনা

        প্রারব্ধের স্থিতিস্থাপক সুতোটা কিছুতেই সেইদিকে যেতে দেয় না, যেদিকে গেলে মনটা শান্তি পায়। কারন প্রারব্ধ সম্পূর্ণ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়নি।
      প্রারব্ধ যেহেতু কিছু কর্মেচ্ছা আর কিছু পাওয়ার ইচ্ছা যোগ করে সৃষ্টি হয়েছে, তাই তার কর্মস্থল এই পৃথিবীর বাহ্য জগত। যার অধ্যাত্মিক ক্রিয়াভুমি মুলাধার। তাই যতক্ষণ প্রারব্ধের স্থুল অংশ বর্তমান ততক্ষণ পার্থিব পাওয়া না পাওয়া থাকবে। আর সাধারন মানুষের এই পাওয়া না পাওয়া থেকেই পুনরায় নতুন প্রারব্ধ সঞ্চয় হতে থাকে। এর থেকে পরিত্রানের পথ মুলাধারের জাগরন। আর এটা হয়ে গেলে কোন পার্থিব ইচ্ছা বা বন্ধন অর্থাৎ কর্ম বন্ধন সৃষ্টি হতে চায় না। কিন্তু যদি সে সময় ইহলোকের দায়িত্ব কর্তব্য শেষ না হয়ে থাকে, তাহলে সে সময় মনের এক অদ্ভুত টানা পোড়েন উপস্থিত হয়। কারন এ সময় পার্থিব কোন কিছুতেই আকর্ষণ বোধ হয় না।
                              তাই
        "আট কুঠুরি নয় দরজা" সম্বলিত স্বর্ণ মানিক্য খচিত গগনচুম্বী অট্টালিকাটি তৈরি কর, করে ফেলে রাখ, কিন্তু গৃহপ্রবেশ করনা। কারন ভাড়া বাড়িতে যে সংসার পেতেছ, তার প্রতি কর্তব্য শেষ না করে নিজ গৃহে প্রবেশ করলে না পারবে সেখানে থাকতে, আবার না পারবে ফিরে এসে ভাড়া বাড়িতে বেশিদিন থাকতে। 
        ভাড়া বাড়িতে দুটি "কারন" তোমায় বেঁধে রাখে, ১) কর্তব্য, ও ২) আকর্ষণ বা পাওয়ার ইচ্ছা। গৃহপ্রবেশ করে ফেললে আকর্ষণ বিকর্ষণে পরিনত হবে ঠিকই, কিন্তু কর্তব্য থেকেই যাবে। এই কর্তব্য সময়ের আগে শেষ হতে পারে কিন্তু তার জন্য অট্টালিকার ওপর তলার ঘর গুলোতেও ঢুকতে হয়। এখন শুধুমাত্র গৃহপ্রবেশেই যদি উভয় স্থানে থাকা না থাকায় দড়ি টানাটানি উপস্থিত হয় তাহলে আরও অন্যান্য ঘর গুলো ঘুরতে শুরু করলে যা ঘটবে তা যে খুবই অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়াবে তার আর বলে দিতে হয় না।

                               তাই

            দেরি হলেও সুষ্ঠু ভাবে সমস্যা বর্জিত অবস্থায় পৌঁছে আমার আমিকে চিনতে পারাই ভাল।
            তাই প্রতিদিনের কর্মসকলের বিশ্লেষণ ও তার থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাই ততদিন পর্যন্ত মনকে আচ্ছন্ন করে রাখুক যতদিন না সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসে উপস্থিত হয়। এভাবেই কর্মযোগের মধ্যে থেকে এগিয়ে গেলে কর্মই জ্ঞানের আলো জ্বেলে দেবে। কিন্তু হাতে যুক্তি রূপী দেশলাই কাঠিটা থাকতে হবে। 
                          

Tuesday, June 2, 2020

জনৈক শুভাকাঙ্ক্ষীর অনুরোধে ২০১৪ সালের একটি ডায়েরি থেকে ...

 জীবন দর্শনের একটা ছেঁড়া পাতা:
 
 (১)
       দু - এক দিন আগে একটি জাতীয় সংবাদপত্রের আলোচনা ধর্মী পাতায় দেখলাম জনৈক লেখক লিখেছেন সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে। আমেরিকার দুই রাষ্ট্রপতির হত্যারহস্য নিয়ে বিভিন্ন ভাবে দিন, বার, বছর ও অন্যান্য তথ্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, যে আমাদের জীবনে ভাগ্যের চাইতে সংখ্যাতত্ত্বের গুরুত্বই বেশী। লেখাটা ছোটো হলেও মন ছুঁয়ে গেলো, কিন্তু লেখাটির শেষ অংশে এসে ভাগ্য সম্পর্কে লেখকের মত সেভাবে গ্রহণযোগ্য মনে হলনা। এভাবে বিচার করতে গেলে জীবনের বিভিন্ন ঘটনা আলাদা আলাদা ভাবে আলাদা আলাদা মতাদর্শের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। যেহেতু লেখাটি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে লেখা, তাই মনে হয় এ লেখাটি সেই সরলমতি বালকগণের মনে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তাভাবনার জন্ম দেবে। কারণ প্রত্যেক শিশুরই জীবনাদর্শ গড়ার পথে প্রথমে পিতামাতার কাছেই হাতেখড়ি। এরপর তার শিক্ষাগুরুর কাছ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা এবং আত্মীয় - স্বজন, বন্ধু - বান্ধবদের সাথে পথচলার অভিজ্ঞতা তার মনে ও ব্যক্তিত্বে সুদুরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। তাই ছাত্রছাত্রীদের   অনেকেই কঠোর বাস্তববাদী হতে পারে।
        বস্তুত যারা ভাগ্যবিশ্বাসী, তারাও ভাগ্যের অধীন, যারা ভাগ্য মানেনা, তারাও ভাগ্যের অধীন। এখন কথা হলো, ভাগ্য বলতে আমরা যা বুঝি বা বোঝাই সেটাই সঠিক কিনা। আসলে ভাগ্য বলতে আমরা সেটাই বুঝি, আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া যে ঘটনা আমাদের দুঃখ দেয়। তাহলে যে ঘটনা আমাদের আনন্দ সুখ প্রদান করে তাকে কি আমরা ভাগ্য বলিনা ? না, সাধারণ ভাবে আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাকে আমরা আমাদের সাফল্য বলতেই অভ্যস্ত, অর্থাৎ আমরা এটাই ভাবি যে এটা আমাদের প্রচেষ্টার ফল। এখানেই আমাদের জীবনদর্শন ভুল পথে চালিত হতে শুরু করে। অর্থাৎ আমাদের  ফলাফল ভালো হলে তা যেন সম্পূর্ণ ভাবে নিজেদের কৃতিত্ব আর ফলাফল খারাপ হলে তা নিতান্তই ভাগ্যের পরিহাস। ব্যাপারটা কি খুব হাস্যকর নয় ?
                             ------  সত্যসন্ধানী

                               ….......…(চলবে)

মাতৃস্নেহ

                  

দশমাস ধরি মোরে বাঁধিলে শৃঙ্খলে,
যবে আসি কহিলে সে শৃঙ্খলমোচনে,
অজ্ঞান, কহিল সে রাখো মোরে বন্ধনে,
অনিচ্ছাতেও অন্তিমে আসিল সমন
প্রারম্ভিকে মোহ মোরে কহিল আসিয়া
"বলি কী করো, কোথা যাও, এ স্বর্গ ছাড়ি";
ঝড়ালো বেদানাস্রু, বার্তা কর্নে পশিয়া;
কাটিল মহাঘোর, শুভক্ষণ আসিয়া;
অশ্রু কহিল -"আনন্দ, নহে এ বেদনা"।।

                    --    হরি ওম তৎসৎ   ।