প্রারব্ধের স্থিতিস্থাপক সুতোটা কিছুতেই সেইদিকে যেতে দেয় না, যেদিকে গেলে মনটা শান্তি পায়। কারন প্রারব্ধ সম্পূর্ণ ক্ষয়প্রাপ্ত
হয়নি।
প্রারব্ধ যেহেতু কিছু
কর্মেচ্ছা আর কিছু পাওয়ার ইচ্ছা যোগ করে সৃষ্টি হয়েছে, তাই তার কর্মস্থল এই পৃথিবীর বাহ্য জগত। যার অধ্যাত্মিক ক্রিয়াভুমি মুলাধার। তাই যতক্ষণ প্রারব্ধের স্থুল অংশ বর্তমান ততক্ষণ পার্থিব পাওয়া না পাওয়া থাকবে। আর সাধারন মানুষের এই পাওয়া না পাওয়া থেকেই পুনরায় নতুন প্রারব্ধ সঞ্চয় হতে থাকে। এর থেকে পরিত্রানের পথ মুলাধারের জাগরন। আর এটা হয়ে গেলে কোন পার্থিব ইচ্ছা বা বন্ধন অর্থাৎ কর্ম বন্ধন সৃষ্টি হতে চায় না। কিন্তু যদি সে সময় ইহলোকের দায়িত্ব কর্তব্য শেষ না হয়ে থাকে, তাহলে সে সময় মনের এক অদ্ভুত টানা পোড়েন উপস্থিত হয়। কারন এ সময় পার্থিব কোন কিছুতেই আকর্ষণ বোধ হয় না।
তাই
"আট কুঠুরি নয় দরজা" সম্বলিত স্বর্ণ মানিক্য খচিত গগনচুম্বী অট্টালিকাটি তৈরি কর, করে ফেলে রাখ, কিন্তু গৃহপ্রবেশ করনা। কারন ভাড়া বাড়িতে যে সংসার পেতেছ, তার প্রতি কর্তব্য শেষ না করে নিজ গৃহে প্রবেশ করলে না পারবে সেখানে থাকতে, আবার না পারবে ফিরে এসে ভাড়া বাড়িতে বেশিদিন থাকতে।
ভাড়া বাড়িতে দুটি "কারন" তোমায় বেঁধে রাখে, ১) কর্তব্য, ও ২) আকর্ষণ বা পাওয়ার ইচ্ছা। গৃহপ্রবেশ করে ফেললে আকর্ষণ বিকর্ষণে পরিনত হবে ঠিকই, কিন্তু কর্তব্য থেকেই যাবে। এই কর্তব্য সময়ের আগে শেষ হতে পারে কিন্তু তার জন্য অট্টালিকার ওপর তলার ঘর গুলোতেও ঢুকতে হয়। এখন শুধুমাত্র গৃহপ্রবেশেই যদি উভয় স্থানে থাকা না থাকায় দড়ি টানাটানি উপস্থিত হয় তাহলে আরও অন্যান্য ঘর গুলো ঘুরতে শুরু করলে যা ঘটবে তা যে খুবই অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়াবে তার আর বলে দিতে হয় না।
তাই
দেরি হলেও সুষ্ঠু ভাবে সমস্যা বর্জিত অবস্থায় পৌঁছে আমার আমিকে চিনতে পারাই ভাল।
তাই প্রতিদিনের কর্মসকলের বিশ্লেষণ ও তার থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাই ততদিন পর্যন্ত মনকে আচ্ছন্ন করে রাখুক যতদিন না সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসে উপস্থিত হয়। এভাবেই কর্মযোগের মধ্যে থেকে এগিয়ে গেলে কর্মই জ্ঞানের আলো জ্বেলে দেবে। কিন্তু হাতে যুক্তি রূপী দেশলাই কাঠিটা থাকতে হবে।